প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরায় স্টেম ফেস্ট অনুষ্ঠিত
প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বুধবার (১২ জুন, ২০২৪) অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক স্টেম ফেস্ট। ক্ষুদে প্রোগ্রামার, রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞান গবেষকদের প্রানবন্ত অংশগ্রহণে মুখোরিত ছিল তালার শহীদ আলী আহমদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। দিনব্যাপী প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শণী, উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে পোস্টার উপস্থাপন, রোবটিক্স প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজনের সিংহভাগ অংশগ্রহণকারী ছিলো মেয়ে শিক্ষার্থী।
উপকূলের প্রত্যন্ত এলাকায় মেয়েশিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প ‘স্টেম এন্ড আইসিটি স্কিলস ফর দ্যা গার্লস অফ কোস্টাল এরিয়া’-এর আওতায় আয়োজিত এই ফেস্টে তালা উপজেলার মোট পাঁচটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তালা উপজেলার শহীদ আলী আহমদ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ কামেল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জে.এন.এ পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ, তালা ব্রজেন দে, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ২২টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, ২৭টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন সহ প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, কুইজ প্রতিযোগিতা, রোবটিক্স প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে তাদের দক্ষতা দেখায়।
স্মার্ট সিটি মডেল, সৌর শক্তি দিয়ে পাম্প চালনা, সোলার মডেল, ভুমিকম্প ডিটেক্টর, সোলার ড্রাইভিং ট্রাকসহ বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প বা মডেল উপস্থাপন করছে। এছাড়াও রোবটিক্সে লাইন ফলোয়িং রোবট তৈরী ও চালনা সহ স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং এ অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাস্তবিক সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর মনোভাব সৃষ্টি ও প্রযুক্তির কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ হয়ে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত বছর থেকে তালা উপজেলার শহীদ আলী আহমদ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শহীদ কামেল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে আসছে প্রকল্পটি। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তক কাজের উৎসাহ দিতে আয়োজিত হল এই স্টেম ফেস্ট। এর আগে প্রকল্পটির মাধ্যমে স্কুল দুটিতে বাংলাদেশ জুনিয়স সাইন্স অলিম্পিয়াডের আওতায় স্কুল ভিত্তিক সাইন্স অলিম্পিয়াড এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের আওতায় স্কুল ভিত্তিক গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া শারমিন। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ুব, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড সৈয়দ মোঃ গালিব প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া ও দক্ষতায় মুগ্ধ অতিথিরা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের নিয়ে এমন আয়োজন সত্যিই অতুলনীয়। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজন ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান সকলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া শারমিন বলেন, উপকূলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমনষ্ক করে তুলতে ও তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বিকশিত করতে এমন আয়োজনের বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও এনজিওদের এমন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞানমনস্কতা সৃষ্টির এমন আয়োজন সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। উৎসবে ৫টি বিভাগের বিজয়ী ১৫ টি দলের শিক্ষার্থীকে মেডেলসহ পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। মালালা ফান্ডের অর্থায়নে এই উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।







